শহীদনূর আহমেদ ::
দিরাই উপজেলার করিমপুর ইউনিয়নের তাজপুর গ্রামে জায়গা-সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে তিনটি পরিবারকে। এতে প্রায় ২৫ জন মানুষ মানবেতর জীবনযাপন করছেন। আদালতের নির্দেশনা অমান্য করে এমন অমানবিক আচরণ করেছেন স্থানীয় এক ইউপি সদস্য - এমন অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।
ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর অভিযোগ, প্রভাবশালী হওয়ায় অভিযুক্ত ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে স্থানীয়রা প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পাচ্ছেন না। তবে অবরুদ্ধ পরিবারগুলো আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
পুলিশ বলছে, বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জানা যায়, তাজপুর গ্রামের বাসিন্দা বর্তমান ইউপি সদস্য আলমগীর হোসেনের সঙ্গে একই গ্রামের জালাল উদ্দিনের দীর্ঘদিন ধরে জায়গা-সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। গত ৫ ডিসেম্বর উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় দুই পক্ষই থানায় পৃথক মামলা দায়ের করে। পরবর্তীতে বিরোধপূর্ণ ভূমিকে কেন্দ্র করে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আদালত নিষেধাজ্ঞামূলক আদেশ জারি করেন। কিন্তু আদালতের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও প্রতিপক্ষকে চাপে রাখতে জালাল উদ্দিন ও তার স্বজনদের বাড়ির চারপাশে কাঁটাতারের বেড়া স্থাপন করেন ইউপি সদস্য আলমগীর হোসেন ও তার লোকজন - এমন অভিযোগ উঠে। এর ফলে তিনটি পরিবারের প্রায় ২৫ জন মানুষ কার্যত ঘরবন্দী হয়ে পড়েছেন। কাঁটাতারের বেড়ার কারণে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে যেতে পারছে না, স্বাভাবিক চলাচলও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
ভুক্তভোগী জালাল উদ্দিনের ভাই মাওলানা হেলাল আহমদ বলেন, ৪০ বছর ধরে যে রাস্তা দিয়ে চলাফেরা করছি, সেটি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। সারা গ্রামের মানুষ আমাদের বাড়ির উপর দিয়ে চলাফেরা করেন। কিছুদিন আগে একটি ডোবা নিয়ে মারামারি হয়। মারামারির পর নতুন করে কবরস্থান নিয়ে বিরোধ করে বাড়ির চারপাশে কাঁটাতারের বেড়া দিয়েছে মেম্বার। মূলত আমাদেরকে তারা এর মাধ্যমে একঘরে করতে চায়।
রাজিয়া সুলতানা নামের ভুক্তভোগী নারী বলেন, আমরা তিন পরিবারের ২৫ জন মানুষ ঘরবন্দি। বাড়িতে ৫-৭ জন ছেলে-মেয়ে স্কুলে যায়। তারা কাঁটাতারের কারণে স্কুলে যেতে পারে না। আমরা মহিলারা কোথাও যেতে পারছি না। আমরা রাস্তা চাই। প্রশাসন আমাদের পাশে দাঁড়াবে এই দাবি করছি।
গ্রামের জিহাদুল ইসলাম তিনটি পরিবারকে কাঁটাতারে অবরুদ্ধ রাখার বিষয়টি অমানবিক হলেও রহস্যজনক কারণে বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলতে চাননা স্থানীয়রা।
এদিকে অভিযোগের বিষয়ে ইউপি সদস্য আলমগীর হোসেনের বাড়িতে গেলে মামলার কারণে আত্মগোপন থাকায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। পরিবারের নারী সদস্যরা জানান, মনোমালিন্য থাকার কারণে বেড়া দেয়া হয়েছে। আর রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে বিধিনিষেধের কথা জানান ইউপি সদস্যের চাচাতো ভাই।
মুঠোফোনে অভিযুক্ত আলমগীর হোসেন আদালতের নিষেধাজ্ঞার দোহাই দিয়ে বলেন, কবরস্থান আমাদের, তাই বেড়া দিয়েছি। তারা কবরস্থান দিয়ে অবাধে চলাফেরা করে। এটি নিয়ে গ্রামবাসীর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। আদালত নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। আমরা আইনশৃঙ্খলা বজায় রেখেছি।
এ ব্যাপারে দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এনামুল হক চৌধুরী বলেন, বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে।
নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha
দিরাইয়ে ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে অমানবিক আচরণের অভিযোগ
কাঁটাতারে অবরুদ্ধ তিন পরিবার
- আপলোড সময় : ১৯-১২-২০২৫ ০৯:২৩:৫১ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ১৯-১২-২০২৫ ০৯:৩১:৩১ পূর্বাহ্ন
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ

স্টাফ রিপোর্টার, দৈনিক সুনামকণ্ঠ